মানুষের উচ্চতা সবচেয়ে দ্রুত বাড়ে কোন বয়সে?
হঠাৎ করেই কি কখনো মনে হয়েছে, কয়েক মাস আগেও ঠিকঠাক থাকা জামা কিংবা প্যান্ট এখন ছোট হয়ে গেছে? বিশেষ করে কিশোর বয়সে এমন অভিজ্ঞতা অনেকেরই হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই হাত-পা লম্বা হয়ে যায়, শরীরের গঠন বদলে যেতে থাকে। তাই অনেকেই ভাবেন, বয়ঃসন্ধিকালই বুঝি মানুষের সবচেয়ে দ্রুত বেড়ে ওঠার সময়। তবে গবেষণা বলছে, বাস্তবতা একটু ভিন্ন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের জীবনে সবচেয়ে দ্রুত শারীরিক বৃদ্ধি ঘটে জন্মের পর প্রথম এক বছরে। এই সময় একটি শিশু গড়ে প্রায় এক ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারে, যা পরবর্তী যেকোনো বয়সের তুলনায় অনেক বেশি।
যুক্তরাজ্যের যুক্তরাজ্যের বাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের –এর গবেষক শন কামিংস জানিয়েছেন, জন্মের পর প্রথম দুই বছর মানুষের শরীর সবচেয়ে দ্রুত পরিবর্তিত হয়। এই সময়টাতেই উচ্চতা বৃদ্ধির হার থাকে সর্বোচ্চ। পরে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই গতি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে।
গবেষণায় দেখা গেছে, মেয়েশিশুরা প্রায় ১৮ মাস বয়সেই ভবিষ্যৎ পূর্ণ উচ্চতার অর্ধেকের কাছাকাছি পৌঁছে যায়। অন্যদিকে ছেলেদের ক্ষেত্রে এটি হতে প্রায় দুই বছর সময় লাগে। এরপর চার বছর বয়স থেকে বয়ঃসন্ধির আগ পর্যন্ত শিশুদের উচ্চতা তুলনামূলক ধীর গতিতে বাড়ে।
তবে বয়ঃসন্ধিতে আবারও শরীরে দ্রুত পরিবর্তন শুরু হয়। সাধারণত মেয়েদের ক্ষেত্রে ১০ থেকে ১১ বছর বয়সে এবং ছেলেদের ক্ষেত্রে ১২ থেকে ১৩ বছর বয়সে উচ্চতা দ্রুত বাড়তে থাকে। এই সময়ে মেয়েরা বছরে গড়ে সাড়ে তিন ইঞ্চি এবং ছেলেরা প্রায় চার ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমোনের প্রভাবে অনেক সময় এই বৃদ্ধি আরও বেশি হতে পারে। বিশেষ করে গ্রোথ হরমোন ও টেস্টোস্টেরন হাড়ের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
মেয়েদের উচ্চতা বৃদ্ধি সাধারণত ১৬ বছর বয়সের দিকে কমে আসে। ছেলেদের ক্ষেত্রে তা প্রায় ১৮ বছর পর্যন্ত চলতে পারে। এ কারণেই গড়ে ছেলেদের উচ্চতা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।
তবে কারও বৃদ্ধি আগে বা পরে শুরু হওয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রয়োজন নেই। কারণ উচ্চতা নির্ভর করে জিনগত বৈশিষ্ট্য, পুষ্টি ও শারীরিক বিকাশের ওপর। কারও বয়ঃসন্ধি আগে শুরু হলে তার বৃদ্ধি আগেই থেমে যেতে পারে, আবার কারও ক্ষেত্রে দেরিতে শুরু হলেও দীর্ঘ সময় ধরে বৃদ্ধি চলতে পারে।
আরও একটি বিষয় হলো, শরীরের সব অংশ একসঙ্গে বাড়ে না। বয়ঃসন্ধিতে প্রথমে হাত ও পা লম্বা হয়, পরে শরীরের মাঝের অংশের বৃদ্ধি ঘটে। তাই এই সময়ে অনেকের জামাকাপড় দ্রুত ছোট হয়ে যায়।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, কিশোর বয়সে হাড় তুলনামূলক নরম থাকে। ফলে খেলাধুলা বা অতিরিক্ত চাপের কারণে এই সময়ে হাড়ে আঘাত পাওয়ার ঝুঁকিও বেশি থাকে।
প্রতি / এডি / শাআ









